নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য - বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য

প্রিয় পাঠক আপনি কি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বা বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। এই আর্টিকেলটিতে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে পাশাপাশি বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ না অন্য কিছু সেটিও জানতে পারবেন।

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সাধারণত উষ্ণ এবং শীতল মৌসুমের পার্থক্য থাকে। এখানে সারা বছর ধরে মোটামুটি তাপমাত্রা থাকে, তবে মৌসুমভেদে তাপমাত্রার পরিবর্তন দেখা যায়। উষ্ণ ও ঠান্ডা আবহাওয়ার মিশ্রণ হয় এবং এখানে সিজনাল পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে সাধারণত চারটি মৌসুম থাকে: গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত এবং বসন্ত। গ্রীষ্মকাল গরম, শীতকাল ঠান্ডা, এবং বসন্ত ও শরৎকাল মৃদু আবহাওয়া থাকে।

এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল সাধারণত উষ্ণ এবং শীতকাল তুলনামূলক ঠান্ডা হয়। তাপমাত্রা প্রায় ১৫°C থেকে ২৫°C পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি বেশ সীমিত হয় এবং মৌসুমী বৃষ্টি ঘটে। কিছু অঞ্চলে অল্প বৃষ্টি হলেও, কিছু অঞ্চলে শুষ্ক পর্ব এবং দীর্ঘকালীন বৃষ্টিপাত দেখা যায়

পাঠক আপনারা পড়ছেন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য, এই অঞ্চলে মিশ্র বন, পাহাড়, সমভূমি এবং প্রান্তিক অঞ্চলের বৈচিত্র্য থাকে। পাহাড়ি এলাকাগুলো শীতল এবং নিম্নভূমি উষ্ণ হয়ে থাকে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়। বনাঞ্চল, তৃণভূমি, মিশ্র বন, এবং অন্যান্য জীববৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে।

এখানে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী এবং উদ্ভিদের প্রাচুর্য রয়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনে পশু-পাখি এবং গাছের একটি বিশাল প্রজাতির দেখা মেলে, বিশেষ করে উষ্ণ বৃষ্টিপাতের অঞ্চলে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে প্রচুর কৃষিজাত পণ্য উৎপন্ন হয়। ধান, গম, আখ, তুলা, পাট, ভুট্টা, কলা, কফি, চা, স্পাইস ইত্যাদি এখানে প্রধান কৃষিপণ্য।

এই অঞ্চলের শহরগুলো সাধারণত কৃষিকাজ, বাণিজ্য, শিল্প এবং শিক্ষা কেন্দ্রীক। মানুষের বসবাসের জন্য এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি পৃথিবীর জনবহুল অঞ্চলগুলোর একটি। এমন বৈশিষ্ট্যের কারণে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল পৃথিবীর একটি অন্যতম বৈচিত্র্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। আশা করি আপনি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য গুলো জানতে পেরে অনেক উপকৃত হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ

বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ না, বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ (tropical) দেশ, যার অবস্থান পৃথিবীর সুষম অঞ্চল (Tropical zone) এ। নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলি সাধারণত পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি উত্তর এবং ২৩.৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত এবং গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে মৃদু তাপমাত্রা থাকে। বাংলাদেশে মূলত দুটি মৌসুম—বর্ষা এবং শীতকাল। শীতকালে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হলেও, তা নাতিশীতোষ্ণ (temperate) অঞ্চলের তুলনায় অনেক উষ্ণ।

তবে, বাংলাদেশে কিছু পাহাড়ি অঞ্চলে শীতকালীন তাপমাত্রা কম হতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে এটি উষ্ণ আবহাওয়ায় শাসিত একটি দেশ। প্রিয় পাঠক এখন আপনারা পড়ছেন বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ সম্পর্ক। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং সিলেট অঞ্চলের মতো কিছু পাহাড়ি এলাকার তাপমাত্রা শীতকালে কিছুটা কম হতে পারে। 

এই অঞ্চলগুলোতে শীতকালে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নামতে পারে, যা অনেকটা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মতো অনুভূত হতে পারে। তবে, বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থানেই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বা উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজমান। বাংলাদেশের গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ু এবং তাপমাত্রার কারণে এটি একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ নয়, বরং উষ্ণ-অক্রান্ত দেশ। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে কিছুটা শীতল আবহাওয়া অনুভূত হতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়া উষ্ণ এবং আর্দ্র।

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রাণী

নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল হলো পৃথিবীর মধ্যবর্তী অঞ্চল, যা ২৩.৫° উত্তর ও ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। এখানে উষ্ণ এবং শীতল মৌসুমের ভারসাম্য থাকে, তাই এখানে বিশেষ কিছু প্রাণী বাস করে। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রাণী হলো,
  • সিংহ সাধারণত আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অংশে থাকে, তবে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের সাভানা এবং গ্যাসি এলাকার প্রাণী।
  • বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়, যেমন তানডা হরিণ, মুকুট হরিণ ইত্যাদি।
  • বিশেষত কালো ভালুক, বাদামী ভালুক এবং মেরি ক্যাট সহ বিভিন্ন প্রজাতির ভালুক এই অঞ্চলে বসবাস করে।
  • এটি একটি শিকারি প্রাণী যা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের কিছু গহীন বনাঞ্চলে থাকে।
  • বানর বিভিন্ন প্রজাতি যেমন রিজার বানর, ম্যাকাক বানর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বসবাস করে।
  • এই অঞ্চলে কচ্ছপের বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়।
  • পেঁচা এক ধরনের রাতের শিকারি পাখি যা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বনভূমিতে পাওয়া যায়।
  • এই প্রাণী মূলত আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে এটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের এক বিশেষ প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত।
  • ইতিহাসে এই প্রজাতি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল, তবে বর্তমানে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
  • এই শিকারি প্রাণীও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বিভিন্ন বনে পাওয়া যায়।
এগুলো নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের প্রাণী এই প্রাণীরা নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন, সাভানা, মিশ্র বন এবং তৃণভূমিতে বাস করে।

লেখকের মন্তব্য

সীমা আইটি ওয়েবসাইট এর প্রকাশিত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য এবং বাংলাদেশ একটি নাতিশীতোষ্ণ দেশ সম্পর্কে আপনার কোন মতামত থেকে থাকলে তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। প্রিয় পাঠক আপনার যদি কোন বিশেষ তথ্য জানার থাকে তাহলে সীমা আইটি ওয়েবসাইট এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

এইরকম অজানা তথ্য প্রতিদিন সবার আগে জানতে সীমা আইটি ওয়েবসাইট ফলো করে সাথে থাকুন। জনসচেতনা তার ক্ষেত্রে আপনার পরিচিত ব্যক্তি যেমন বন্ধু বান্ধবী, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই আর্টিকেল টি শেয়ার করে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url